এ্যাবের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
কেআইবি ও এ্যাব নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা

ছবি: আগামীর সময়
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এবং এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)।
সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার জানান, সম্প্রতি এ্যাবের সদস্যসচিবসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেআইবি তহবিল থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আদায়ের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদদের তত্ত্বাবধানেই এই কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে কাজের বকেয়া বিল পরিশোধের অংশ হিসেবেই ওই অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত উপায়ে ঠিকাদার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। এখানে কোনো জবরদস্তি বা অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।’
ভিডিওর অংশবিশেষ কেটে বিভ্রান্তি
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেছেন, ‘একটি অসাধু চক্র কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর নির্বাচিত অংশ বা ‘কাটপিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়।’
তবে পরবর্তীতে দিলিপ কুমার সরকার নিজেই অন্য একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, তাকে কোনো ভয়ভীতি দেখানো হয়নি এবং ওই অর্থ কেআইবি ভবনের সংস্কারকাজের বকেয়া বিল হিসেবেই পরিশোধ করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকার বলেছেন, ‘আমার একটি ভিডিওর নির্বাচিত অংশ বা ‘কাটপিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে আমি আইন মেনেই সব কাজ করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের প্রবীণ ও সম্মানিত কৃষিবিদদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে স্পষ্ট হয় যে, পুরো বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যের অপব্যাখ্যার ফল।
এরপরই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেই নিষ্পত্তিকৃত ঘটনাকে নতুন করে সামনে এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে।
বক্তারা বলেছেন, এ ধরনের অপপ্রচার দেশের কৃষিবিদ সমাজ, তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কেআইবি এবং অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন এ্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক জানান, বর্তমানে এ্যাবের ছয় সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে শুধু একজন ভিন্ন পথে চলছেন। তিনি এ্যাবকে বিতর্কিত করার জন্য নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে অচিরেই বিএনপির উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেব। পাশাপাশি অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেই একজন কে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাবের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম শফিক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এ্যাবের সদস্য শাহাদত হোসেন চঞ্চল, প্রফেসর ড. জামশেদ আলম, নুরুন্নবী শ্যামল এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দিলিপ কুমার সরকার।




