দিলারা চৌধুরী
রাজনীতিবিদ থেকেই রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার ৫টা ১ মিনিটে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসছে— দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়েও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো আমলার পরিবর্তে একজন রাজনীতিবিদকে বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তারা রাজনীতি বোঝেন। তাই রাষ্ট্রপতি রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই হওয়া উচিত। আমলাদের এত উচ্চ পদে বসানোর যুক্তি আমি দেখি না।’
তিনি আরও বললেন, ‘এটা মূলত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাকে পছন্দ করেন, তার ওপর। কারণ সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।’
তবে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হলেও বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তার ভাষায়, ‘বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির কার্যকর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হয়। আমরা চেয়েছিলাম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।’
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীতিগতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি।
যদিও দলটির পক্ষ থেকে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, তবে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রে কয়েকটি নাম আলোচনায় এসেছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ তিন নেতা— দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা বর্তমান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন, সে সিদ্ধান্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। কারণ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তই কার্যত নির্ধারক হবে।






