মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী চাকরি হারিয়েছেন, আবার অনেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা করছে সরকার।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের রেমিট্যান্সে পড়তে পারে। শুধু সৌদি আরবেই ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি আছেন। যুদ্ধের কারণে কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকে কর্মহীন অবস্থায় সেখানে দিন কাটাচ্ছেন। এসব কারণে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স কমতে পারে।
তবে সরকার নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নতুন দেশে কর্মী পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও বৈধ অভিবাসন বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে কাজের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানির নতুন উৎস খুঁজতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সংকটের খবর তাদের কাছে নেই।
তিনি জানালেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হলে তা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব পড়বে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনা পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখনো ‘মক্কা প্যাক্টে’ যোগ দেয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলা যাবে না। তাই এ মুহূর্তে সেনা পাঠানোর প্রশ্ন উঠছে না।
তবে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি রয়েছে বলে জানান তিনি। চলমান সংঘাত দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার জন্য সৌদি আরব সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশ পাশে থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, পবিত্র দুই শহরের নিরাপত্তা মুসলিম বিশ্বের মানুষের কাছে শুধু কূটনৈতিক বিষয় নয়, আবেগের সঙ্গেও জড়িত। সেখানে কোনো হুমকি দেখা দিলে বাংলাদেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে চায় না। বিষয়টি ভারতের নিজস্ব ব্যাপার।
এদিকে বিএনপির সংসদীয় দলের সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায় তিন ঘণ্টার উন্মুক্ত আলোচনায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছেন। বৈঠকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো গোষ্ঠী যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ নিজ এলাকায় জনগণের পাশে থাকা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপনির্বাচনে দলীয় সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




