ভারতে বসে শেখ হাসিনার কথা বলা ‘মূল্যহীন’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: পিআইডি
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেসব কথা বলছেন, তা আমলে নিচ্ছেন না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি কিছু বলা অর্থহীন ও মূল্যহীন বিষয়।
আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে একথা বলেন হুমায়ুন কবির।
দুই বছর আগে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি দলীয় বিভিন্ন সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন স্বৈরাচার ও পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের নিয়ে কথা বলার গুরুত্ব নেই। যারা পালিয়ে গেছে, তারা আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনার তৎপরতা বন্ধে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধও করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে সরকার সচেষ্ট জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, যেখানে ‘অফিসিয়ালি’ জানানোর প্রয়োজন, সেখানে সরকার হিসেবে আমরা অবশ্যই জানাব।
কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কোরিয়ান ইপিজেডকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আজ রাতেই দুদিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন হুমায়ুন কবির। তার এই সফর দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক মজবুত করবে বলে তিনি আশাবাদী।
সফরে কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হবে কি না- এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, এই সফরটি মূলত আলোচনার পথ তৈরি করা এবং ঢাকা ও সিউলের মধ্যে মন্ত্রীপর্যায়ের সফরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য।’
তবে কোরিয়ার সঙ্গে একটি সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার সফরের পর অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর এই চুক্তি সইয়ের কাজে গতি দেবে।
নতুন করে কি কোরিয়ার কোনো বিনিয়োগ আসবে কি না- জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্যই তো যাচ্ছি। অবশ্যই নতুন বিনিয়োগ আসবে।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে নতুন কোনো তথ্য আছে কিনা, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই বাজার বন্ধ হয়েছিল। আমরা প্রক্রিয়াটি পরিষ্কার করছি এবং আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফলের দিকে যাচ্ছি।’



