বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরঘুমে আবুল কাসেম ফজলুল হক

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
প্রকৃতির অঝোর কান্না আর সর্বস্তরের মানুষের অশ্রুজলে চিরবিদায় নিলেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাংলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দুই দফা জানাজা সম্পন্ন হয়।
গতকাল রবিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজ করতে গিয়েছিলেন অধ্যাপক হক। সেখানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সকালে এই জ্ঞানতাপসের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় তার প্রিয় কর্মস্থল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে। সেখানে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, গবেষক, লেখক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই হয় তার প্রথম জানাজা।
বেলা ১১টায় কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষেরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দুপুরের দিকে মরদেহ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নিয়ে যাওয়া হলেও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সেখানে কফিন নামানো সম্ভব হয়নি। পরে সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের মূল ফটকে কফিন রাখা হয়। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
কলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে দুপুর পৌনে ২টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দাফনকাজ সম্পন্ন হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার জামাতা আনোয়ারুল হাসান।
শহীদ মিনারে বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুচিতা শারমিন বলছিলেন, ‘আমার বাবা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। চেষ্টা করেছেন দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভালোর জন্য কাজ করতে। আমরা যেন তার দেখানো আদর্শের পথে চলতে পারি, সেই দোয়া করবেন।’





