এখতিয়ার ছাড়াই ৩২ কোটি টাকা খরচ এমডির!
- ইডিসিএলের বোর্ডসভা আজ

দুই মাস আগে কাগুজে নিয়োগ পেলেও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পাননি সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ কা মো. আশরাফুজ্জামান। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সচিব মোজাহিদুল ইসলামকে এমডির দায়িত্ব পালন করতে বলেছিল পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড)। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে অন্তত ৩২ কোটি টাকার কেনাকাটা করেছেন আশরাফুজ্জামান। পাশাপাশি অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করেছেন। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে স্বাস্থ্য খাতে।
এমন পরিস্থিতিতে আজ সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) সভা বসতে যাচ্ছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মসহ সার্বিক বিষয় আলোচনা শেষে এমডির বিষয়টিরও সুরাহা হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সদস্য ও স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সোমবার (আজ) বিকালে বৈঠক ডেকেছেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে সব ধরনের অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিষয় আলোচনা হবে। সেখানেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হবে।’
জানা গেছে, ইডিসিএলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু বোর্ডকে সম্পূর্ণ বাইপাস করে এবং বিদ্যমান নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করেই গত ২১ মে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগের দিনই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সামাদ মৃধাকে তার অফিসকক্ষে লাঞ্ছিত এবং পুরো অফিস জুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অফিস ত্যাগ করেন সাবেক এমডি। বিষয়টি নিয়ে গত ২৪ মে আগামীর সময়ে ‘অনুমোদন ছাড়াই এসেনসিয়াল ড্রাগসের এমডি নিয়োগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্বাস্থ্য খাতে তোলপাড় শুরু হয়।
পরে ৪ জুন অনুষ্ঠিত ১৯০তম বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত হয়— পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইডিসিএলের সচিব মো. মোজাহিদুল ইসলাম তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এমডি সরকার কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন বিধায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার চুক্তিপত্রের কপি, পুলিশি প্রতিবেদন ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এগুলো জমা দিলে তা পরবর্তী বোর্ডসভায় অনুমোদনের পর তিনি এমডির দায়িত্ব পালন করবেন। আজও নতুন এমডি আশরাফুজ্জামানের নিয়োগ বোর্ডসভার অনুমোদন মেলেনি বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমান এমডি আ কা মো. আশরাফুজ্জামান বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ৩২ কোটি টাকার বেশি কেনাকাটা করেছেন। এক্ষেত্রে বোর্ডের কোনো অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে লবিং, স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের পুরনো সংস্কৃতিই অনুসরণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়মিত হওয়ার আগেই অনিয়মের দায়ে সহকারী কর্মকর্তা পদে চাকরিচ্যুত মো. শামীম আহমেদকে ডেপুটি ম্যানেজার (অ্যাডমিন), অফিস সহকারী পদে চাকরিচ্যুত মো. বরকতুর রহিমকে অফিসার (অ্যাডমিন) এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতায় উৎপাদন শ্রমিক পদে চাকরিচ্যুত মো. রানাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেন। তাদের নেতৃত্বে বর্তমান এমডির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ইডিসিএলে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট অতীতে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের আশ্বাস দিচ্ছেন। চাকরি ফিরিয়ে দিতে কর্মকর্তা পর্যায়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, কর্মচারী ও শ্রমিক পর্যায়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ক্লিনার পদে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বদলি করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয় জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলে রিসিভ করেননি ইডিসিএলের এমডি আ কা মো. আশরাফুজ্জামান। পরে তার মোবাইল ফোনে প্রতিবেদকের পরিচয় জানিয়ে এসএমএস করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।




