ইংরেজি মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাধা কাটাতে কমিটি হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কমিটি গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভর্তির বাধা দূর করার বিষয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের নির্বাহী কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সমস্যা সমাধানে কমিটি কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে এসব শিক্ষার্থীর জন্য কোনো কারিকুলাম নেই। এ বিষয়ে স্কুলগুলোর কাজ করা প্রয়োজন।
সেমিনারে জানানো হয়, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো শিক্ষাক্রম ও ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোগত অসামঞ্জস্য। এসব শিক্ষার্থী ব্রিটিশ শিক্ষাক্রমের অধীনে ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেলে পড়াশোনা করেন। অন্যদিকে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা মূলত জাতীয় শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়।
ফলে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের ইতিহাসসহ জাতীয় শিক্ষাক্রমভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণ, বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার শর্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন ভর্তি নীতিও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে দুই শিক্ষাক্রমের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা প্রয়োজন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমুজাদ্দেদী আলফাসানে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন— ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল মো. মোর্শেদুল ইসলাম, উইজডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মজিদুল হক লিটন, সানিডেইল স্কুলের প্রিন্সিপাল ইয়াসমিন হাবিব, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মিরপুর ও বসুন্ধরা শাখার প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও হেড অব স্কুল মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ, সানবিমস স্কুলের প্রিন্সিপাল মুনিজে মঞ্জুর, স্কলাস্টিকা স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা মাদিহা মুর্শেদ, সাউথ ব্রিজ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ জিনাত আহমেদ এবং ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের পরিচালক সৈয়দ পারভেজ আহসান।



