পিআরআই চেয়ারম্যান
উৎপাদনশীলতা সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়

‘উৎপাদনশীলতা সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার: বাজেট-পূর্ব অগ্রাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। ছবি : আগামীর সময়
শুধু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দিয়ে উচ্চ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন করে গতি দিতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী কাঠামোগত সংস্কারে যেতে হবে।
রাজধানীতে ‘উৎপাদনশীলতা সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার: বাজেট-পূর্ব অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন পিআরআই চেয়ারম্যান।
জাইদি সাত্তার বলেছেন, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা ধাক্কার মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দিয়েছে। মহামারি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দেশ এগিয়েছে। তবে বর্তমানে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
‘প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব, আর্থিক ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা নীতিনির্ধারণে চাপ তৈরি করছে’, যোগ করেন তিনি।
তবে এর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন পিআরআই চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, রপ্তানি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ব্যবসায়িক আস্থার সূচকেও অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য কমাতে উচ্চ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অপরিহার্য। এজন্য শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন ধাপের সংস্কার প্রয়োজন।
জাইদি সাত্তার জানালেন, পিআরআইয়ের প্রতিবেদনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করা, বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ জোরদার, করব্যবস্থার আমূল সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, জ্বালানি খাত সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
তবে বহির্বাণিজ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পিআরআই চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে সংযুক্তি এবং আধুনিক শিল্পনীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ আর শুধু প্রচলিত প্রবৃদ্ধির উৎসের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের প্রতি উন্মুক্ততার ওপর।
‘এ আলোচনা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আরও গভীর চিন্তাভাবনার সুযোগ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে’, আশা প্রকাশ করেন জাইদি সাত্তার।


