৭ বছর আগে গোপন নিয়োগ, তদন্তে বিএসসিএল

সংগৃহীত ছবি
ঠিক সাত বছর আগে একটি নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। নেওয়া হয় প্রিলি, লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা। কিন্তু কখনো সামনে আসেনি চূড়ান্ত ফল। অথচ চার ধাপে পরীক্ষা হয়েছিল মাত্র দুই দিনে। অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটিই হয় গোপনে। আগে থেকেই বিএসসিএলে কর্মরত এবং তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে দেওয়া হয় নিয়োগ।
বিএসসিএলের ওয়েবসাইটেও নেই কোনো রেকর্ড। দুই মাস আগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ভুক্তভোগীরা। এরপর এলো তদন্তের নির্দেশ। চাওয়া হয়েছে ব্যাখ্যাও। বিএসসিএল জানাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে শিগগিরই প্রতিবেদন পাঠানো হবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে। বিএসসিএলকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের একান্তসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩০ মে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ১৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তৎকালীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বর্তমান বিএসসিএল)। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সে সময় স্বল্প পরিচিত পত্রিকায় দেওয়া হয়েছিল বিজ্ঞপ্তি।
ওই বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের অফিস রোজ-এন-ডেল ভবনে হয় প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা। এর তিন ঘণ্টার মধ্যে হয় মৌখিক পরীক্ষা। পরদিন ছিল ব্যবহারিক।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরীক্ষা শেষে দীর্ঘদিন কোনো তথ্য পাননি। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, যাদের নিয়োগ হয়েছে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন। আর নিয়োগ পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনই চুক্তিভিত্তিক কর্মরত ছিলেন বিএসসিএলে। তাদের ছবি আগে থেকেই ছিল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে।
সরকার পরিবর্তনের পর পাঁচ জায়গায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, সবাই অভিযোগপত্র নিয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
চাকরিপ্রার্থী মো. নাসিম পারভেজ বলছিলেন, ‘আমার একটাই প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার। সে সময় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়-স্বজন চাকরি পেয়েছেন বলে জেনেছি। আমি বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এটি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়। আমি চাই সত্য উদঘাটিত হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পান।’
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদের ভাষ্য, ‘প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা শেষে গভীর রাতে ফোন করে বলা হয় পরদিন কম্পিউটার টেস্ট হবে। সেখানে গিয়ে দেখি চারটি গ্রুপ করা হয়েছে। প্রথম তিনটি গ্রুপ প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট করে পরীক্ষা দিয়েছে। পরে জেনেছি নিয়োগ পাওয়া সবাই ওই তিনটি গ্রুপেই ছিল। কিন্তু আমাদের গ্রুপের পরীক্ষা মাত্র ১০ মিনিটেই শেষ করা হয়। এরপর ফল প্রকাশ করা হয়নি। অনেক পরে জানতে পারি, নির্বাচিতদের পুলিশ ভেরিফিকেশন পর্যন্ত হয়ে গেছে।’
‘পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল লোক-দেখানো। শুধু বাইরে থেকে কিছু প্রার্থীকে ডাকা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিটি নিয়োগের ফল ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নিয়োগের কোনো খবর নেই। অনেক বছর পার হওয়ায় অধিকাংশ প্রার্থী অভিযোগ করেননি। আমরা দুজন অভিযোগ করেছি। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রণালয় থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি’, যোগ করেন আব্দুল মজিদ।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমানের কাছে। আগামীর সময়কে তিনি বলছিলেন, ‘এই নিয়োগটি প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের। মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকদিন আগে অভিযোগ তদন্তের চিঠি পেয়েছি। সে অনুযায়ী হয়েছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’






