জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করার দাবি তরুণদের

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। ফাইল ছবি
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সমন্বিত জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া কঠিন হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
তরুণ প্রতিনিধিরা বলেছেন, দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রাণহানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৯০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ওই বছর ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। আরেকটি হিসাবে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৪ সালের হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিআরটিএর হিসাবে ওই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫ হাজার ৩৮০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে এ সংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৩। আর রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ২৯৪।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যুব সংগঠনগুলোর মতে, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে এমন পার্থক্য দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। ফলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা জরুরি।
যুব প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজে দুর্ঘটনার স্থান, সময় ও ধরন সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যানবাহন, সড়কের অবস্থা এবং নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তথ্যও রাখতে হবে।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা যাবে। এর ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ জন্য বিআরটিএ, পুলিশ, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করার অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি এবং হতাহত ব্যক্তিদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটি, লাল সবুজ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, ক্লাইমেট কানেক্টস ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।
তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।



