নীরব ভুক্তভোগী, বেপরোয়া ব্ল্যাকমেইলার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কয়েকটি ছবি, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা একটি ভিডিও। মুহূর্তের অসতর্কতায় চলে যেতে পারে অন্য কারও হাতে; হতে পারে দীর্ঘদিনের আতঙ্কের কারণ। প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়ছে, তত বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য ব্যবহার করে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) তথ্য বলেছে, প্রতি মাসে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে অভিযোগ করছেন গড়ে প্রায় ৪০ জন। গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ মাসে সিপিসিতে ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি-সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে ৪৩৮টি।
বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন এমন পুলিশ সদস্যরা বললেন, বাস্তবে ব্ল্যাকমেইলের শিকার মানুষের সংখ্যা অভিযোগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু বেশিরভাগই চুপ থাকেন সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস হওয়ার ভয়ে। হতে চান না আইনের শরণাপন্ন। এ নীরবতাই অপরাধীদের জন্য তৈরি করছে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর সিংহভাগই ডিজিটাল বা অনলাইন মাধ্যমকেন্দ্রিক। ৪৩৮টি অভিযোগের মধ্যে ৩৪৮টি ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। সবচেয়ে বেশি ঘটছে ভুয়া পরিচয়ে বন্ধুত্ব, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য সংগ্রহ, অ্যাকাউন্ট হ্যাক কিংবা অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা।
মোবাইল ফোনে সরাসরি হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেছেন ৬৭ ভুক্তভোগী। এছাড়া অন্যান্য প্রথাগত বা ভিন্ন মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল-সংক্রান্ত নথিভুক্ত হয়েছে আরও ২৩ অভিযোগ।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে অসচেতনতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রক্ষা করে বিশ্বাস অর্জন করে, পরে সে সম্পর্ককেই ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে।
তাদের মতে, ভয়, লজ্জা ও সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়ার আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না অধিকাংশ ভুক্তভোগী। ফলে অপরাধীরা হয়ে উঠছেন আরও বেপরোয়া।
সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান আগামীর সময়কে জানালেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। তবে পুলিশের পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদেরও হতে হবে সচেতন। তার পরামর্শ— অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা। কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত কাছের থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও বললেন তিনি।
সিআইডির এই কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ ভুক্তভোগীরা যত দ্রুত অভিযোগ করবেন, অপরাধীদের শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা হবে তত সহজ।




