সচিব সভা
সরকারি সম্পত্তি বেহাত ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা
- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের তাগিদ
- বিদ্যুৎ সংকটে সোলারে জোর
- ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ

সরকারি সম্পত্তি আর কোনোভাবেই বেহাত হতে দেওয়া যাবে না। চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা দূর করতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু করতে হবে ডিজিটাল হাজিরাও।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সচিব সভায় সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক সচিব সভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিবের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন মুখ্যসচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আবদুর রহমান তরফদার, দুদক সচিব সাইদুর রহমান ও বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ কয়েকজন সচিব।
সভায় আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনে দুর্নীতি ও হয়রানি নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারি কর্মচারীদের বিষয়ে নেতিবাচক জনমত তৈরি হওয়া ঠেকাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও সেবার মান উন্নত করার তাগিদ দেওয়া হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিষয়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও আসে সভায়।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে প্রবেশ করে ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। একইভাবে সব সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে সভায়। ভূমি সচিব ভূমি অফিসগুলোর বিভিন্ন সমস্যা এবং সেগুলো ডিজিটালাইজ করার অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ সময় সরকারি সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলাগুলোতে সরকার বারবার কেন হেরে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে কার্যকরভাবে আইনি লড়াই করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে সরকারি সম্পত্তি আর বেহাত না হয়।
এ ছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থার শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং পদগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিব সভার আলোচ্যসূচিতে মোট চারটি বিষয় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সরকারের কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০), সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল, কল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয় এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ইস্যু। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্রের কপিও এর আগে সব সচিবের কাছে পাঠানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকলেও আর কোনো সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



