আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস পেতে তৈরি হচ্ছে থ্রিডি মডেল
- ভূমির বন্ধুরতা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল তৈরি করা হবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেপালের সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যা চোখ খুলে দিয়েছে বাংলাদেশের। আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস পেতে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রিডি) মডেল। বিশেষ করে প্রথম পর্যায়ে এটি তৈরি করা হবে সিলেট অঞ্চলের জন্য। সফল হলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে সারা দেশে। এজন্য ‘বন্যা পূর্বাভাস সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সিলেট বিভাগের ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রিডি) মডেল প্রস্তুতকরণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।
চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর। এরই মধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী বুধবার এ প্রকল্পটি সম্পর্কে জানানো হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তাকে অবহিত করতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় এটি অনুমোদনের এখতিয়ার পরিকল্পনামন্ত্রীর। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী অনুমোদন হলেও এসব প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বন্যা পূর্বাভাস সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিলেট বিভাগের ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রিডি) ডাটা সংগ্রহ করা হবে। এটি ব্যবহার করে ভূমির বন্ধুরতা নির্ধারণ করে সিলেট বিভাগ ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল তৈরি করা হবে। সরকারি বা বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী এ মডেল ও জিও-স্পেশিয়াল তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর জাতীয় মানচিত্র সংস্থা হিসেবে ১৭৬৭ সালে বেঙ্গল সার্ভে নামে যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৪ সালে অধিদপ্তরের বাংলা নাম ‘বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর’ নির্ধারণ করা হয়। ১৯৯২ সালে গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ তল নির্ণয়ের জন্য চট্টগ্রামের রাঙ্গাদিয়ায় টাইডাল স্টেশন স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর ভূস্থানিক তথ্য-উপাত্ত যেমন টপোগ্রাফিক্যাল ম্যাপ, ভৌগোলিক ম্যাপ (উপজেলা, জেলা ও বিভাগ ইত্যাদি), থিমেটিক ম্যাপ, ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল এবং জিওডেটিক্যাল কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, জিএনএসএস কোরস নেটওয়ার্ক, জিআইএস ডাটাবেজ, আকাশ আলোকচিত্র, অর্থোফটো, কন্ট্যুর, স্পট হাইট এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট অঞ্চল বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময়। পাহাড়, ঝরনা, নদী, হাওর, অরণ্য, চা বাগান কিংবা জলারবনের নৈসর্গিক লীলাভূমি সিলেটে ২৬/২৭টি পর্যটন স্পট রয়েছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, পাহাড়ি ঢল, অধিক বৃষ্টিপাত, বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ভরাট হয়ে নাব্য কমে যাওয়া এই এলাকার জন্য প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকার আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট শহরকে সুন্দর ও আধুনিক শহরের মাস্টার প্ল্যান তৈরির প্রয়োজনে বৃহৎ স্কেলের টপোগ্রাফিক মানচিত্র, সমৃদ্ধ জিআইএস ডাটাবেজ ও নিখুঁত ডিজিটাল এলিভেশন মডেল তৈরির জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো-২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে আকাশ চিত্র বা স্যাটেলাইট ইমেজ তৈরি, আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯টি কম্পিউটার কেনা, ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে। এ ছাড়া ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬১টি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি কেনা, ২০ লাখ টাকায় আসবাবপত্র কেনা, ২ কোটি টাকায় ৭৮টি অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কেনা এবং ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি সফটওয়্যার কেনা হবে।
প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ অধ্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণে সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গুরুত্ব দিয়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করা হয়।



