শিশু হাসপাতাল
আতঙ্কিত মায়ের মুখগুলি ...

ফাইল ছবি
আর কিছু নয়, তাড়া করছে ‘হাম’ শব্দটি। মায়েরা আতঙ্কিত, কখন যে খালি হয়ে যায় তার বুক! শিশুর শরীরে জ্বর বাড়লেই চড়ছে চিন্তার পারদ, মা তো...! রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে দেখা মিলল তেমনই এক মায়ের। চিকিৎসকের কাছে তার আকুতি, ‘আমার বাচ্চাডারে বাঁচান, তিন দিন ধইরা জ্বর কমতাছে না।’
তিনি আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। কোলের নিস্তেজ শিশুটির শরীরজুড়ে লাল ফুসকুড়ি, শেষ চৈত্রের দুপুরের মতো উত্তাপ গায়ে। ‘বুকের মানিকের’ চিন্তায় ক্ষণে ক্ষণে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন আর ভিজে উঠছে মফস্বল থেকে আসা অসহায় মায়ের চোখের কোণ। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের মতো এমন দৃশ্য এখন দেশের বেশিরভাগ শিশু হাসপাতালেরই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রবিবার পর্যন্ত দেশে শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি সন্দেহভাজন হাম রোগী; যাদের মধ্যে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। আর আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের বেশি ৫ বছরের নিচে। হামের লক্ষণ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও শতাধিক।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকার মধ্যে আছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। কিন্তু ঢাকা ছাড়া অন্য এলাকায় নেই তেমন চিকিৎসা সুবিধা। ফলে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের আক্রান্তদের বেড়েছে ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা। আর এসব রোগীর বেশিরভাগই আসছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে।
হাসপাতালের নথি সাক্ষ্য দিচ্ছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হচ্ছে শিশু। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আসতে হচ্ছে দেরি। চিকিৎসকদের সতর্কতা, ‘দেরি করে আনার কারণেই বাড়ছে জটিলতা।’
এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে প্রধান কারণ টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সচেতনতার অভাব। বিশেষ করে ৯ মাসের নিচের শিশু, যারা এখনো হামের টিকা পায়নি, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এ কারণে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত নিতে হবে হাসপাতালে। সংকট ব্যাখ্যা করে পরামর্শ চিকিৎসকদের।
অবশ্য আশার কথা, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় রবিবার থেকে শুরু হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে টিকাদান।
এ ছাড়া আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে, যা চলবে ১১ মে পর্যন্ত। এই টিকা নিতে পারবে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা ও দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে ময়মনসিংহের ওই মায়ের মতো অসংখ্য মায়ের চোখ ভিজবে হাসপাতালের করিডরে বা বারান্দায়।

