ডেঙ্গুতে মৃত্যুতে শীর্ষে ঢাকা
- ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হামে মৃত্যু তিন শিশুর

ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। চলতি বছর বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। আক্রান্তের সংখ্যায় এবার দেশের শীর্ষে উঠে এসেছে বরিশাল বিভাগ। অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যায় ময়মনসিংহকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা বিভাগ।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৯৫ জন (৬১ দশমিক ৪ শতাংশ) পুরুষ এবং ৩ হাজার ২০ জন (৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ) নারী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৪ জন, যার মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সী মানুষ পড়াশোনা, চাকরি ও অন্যান্য কাজে বেশি বাইরে থাকায় দিনের বেলায় কামড়ানো এডিস মশার সংস্পর্শেও বেশি আসেন। তবে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, এ বয়সে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকায় জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৭ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৮৩৪, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪১৩ এবং খুলনায় ৯৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে ঢাকা বিভাগ, যেখানে মারা গেছেন ৯ জন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৫ এবং খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন করে মারা গেছেন। মাসভিত্তিক তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জুন মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। জুলাই মাসের প্রথম দিকেই আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৭১১ জনে। এ ছাড়া মে মাসে আক্রান্ত হন ৭১৪ এবং এপ্রিলে ৬৪০ জন। মৃত্যুর দিক থেকেও জুন ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ; এ মাসেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়। চলতি জুলাইয়ে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয়জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, বয়স্ক ব্যক্তি, অল্প বয়সী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দুগ্ধপান করানো মা এবং ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ক্যানসার ও অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
হামে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি : এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ১১৭ দিনে হাম ও এর উপসর্গে ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ শিশু।




