বেঁধে দেওয়া সময় শেষেও আদ্-দ্বীনে রোগীরা

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের
লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, এ খবর এখন পুরনো। সবশেষ খবর হলো, গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত হাসপাতালটিতে
ভর্তি ছিলেন ২৩৪ রোগী। অথচ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগীদের ছয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের
পরামর্শ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও রোগীরা রয়েছেন এবং
তাদের চিকিৎসাও দিচ্ছে লাইসেন্স হারানো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, আলিফ ভবন-১-এর পাশে হাসপাতালের
বিভিন্ন সেবার তালিকার সঙ্গে টানানো রয়েছে লাইসেন্স বাতিলের সরকারি নোটিসটি। সেখানে
কয়েকজন স্বজন মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলেন সেটি, আলোচনাও করছিলেন নিজেদের মধ্যে। কয়েকজন ক্ষোভ
প্রকাশ করে বললেন, হঠাৎ করে হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে সতর্কতা বা কিছু
সময় দেওয়া হলে রোগীদের জন্য সুবিধা হতো।
শরীয়তপুর থেকে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে নিয়ে তিন দিন আগে হাসপাতালে এসেছেন শহিদুল্লাহ। তিনি বললেন, ‘আমার রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। এখন তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া কঠিন। সরকার যদি রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা করত, তাহলে সুবিধা হতো। এ অবস্থায় কিছু হয়ে গেলে আমি কী করব?’
হাসপাতালোর পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল জানালেন, হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। যাদের অবস্থা ‘ক্রিটিকাল’ তাদেরই দেওয়া হচ্ছে সেবা।
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগের দিন হাসপাতালে ২৪৩ জন রোগী ছিলেন ভর্তি।
গতকাল পর্যন্ত নয়জন রোগী ছেড়েছেন হাসপাতাল। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৩৪, যাদের মধ্যে
৯ জন আইসিইউতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ রোগীর অবস্থাই জটিল এবং তাদের দ্রুত
অন্যত্র স্থানান্তর করা সহজ নয়।
অন্যদিকে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ৫০ বছর বয়সী কিডনি রোগী কামাল মিয়া মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার তার ডায়ালাইসিসের সময় ছিল। কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে সরকার নির্ধারিত অন্য ছয়টি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অন্য কোথাও নেওয়ার আগেই রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


