শ্রমিক আন্দোলনে ‘নাশকতা’ ঠেকাতে মাঠে বিএনপি

সংগৃহীত ছবি
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও কারখানা ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকানোর কথা বলে মাঠে নেমেছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কারখানার প্রবেশপথ ও মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে তাদের। দলীয় নেতাদের দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি মহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি সরকারদলীয় সংগঠনের।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই গতকাল সোমবার শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। তবে এরপরও আজ মঙ্গলবার গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলন’
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নাশকতা ঠেকানোর কথা বলে অবস্থান নেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে স্টাম্প ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার পর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর ১টা ১৬ মিনিটের দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায়ও স্টাম্প হাতে তাদের মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
পল্লবী থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ মল্লিক বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের রুখতে থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ ঘটনায় অন্তত চারজনকে আটক করে পুলিশ।
গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে অবস্থান বিএনপির
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে টানা কয়েক দিন ধরে জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে গাজীপুরে। সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া গত কয়েক দিনে শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি থাকায় ব্যাহত হয়েছে উৎপাদনও।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নেন। কোনাবাড়ী ও বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন এলাকাতেও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মহাসড়কের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, শ্রমিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি কারখানায় কাজে যোগ দিতে যাওয়া শ্রমিকদের বাধা দিচ্ছেন এবং তাদের আন্দোলনে যোগ দিতে উসকানি দিচ্ছেন। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।
‘শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে’ এ লক্ষ্যে আমাদের অবস্থান, বললেন শওকত হোসেন।
এর আগে গত সোমবার গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেয়র মুজিবুর রহমান মহানগরীর নওজোড় এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে যুবদল
নারায়ণগঞ্জেও শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে অস্থিরতা ঠেকাতে মাঠে রয়েছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পঞ্চবটি মোড়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়া, জেলা পরিষদ, শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভূইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় তাদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিসিক শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক পঞ্চবটি ও মাসদাইর এলাকাতেও জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
‘শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি সমাধানে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শ্রমিক আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন’ দাবি জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে যুবদলের সমর্থনের কথাও জানালেন রনি। ‘আন্দোলনকে ব্যবহার করে কেউ যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য মাঠে রয়েছেন যুবদল।’
কারখানার সামনে পাহারায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের কথা বলে শিল্প-কারখানার সামনে অবস্থান নেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে কয়েকটি শিল্প-কারখানার সামনে তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
২০২৪ সালের পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা শ্রমিকদের ছদ্মবেশে আন্দোলনে মিশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে দাবি সাভার বিএনপি নেতা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের।
‘শিল্প খাত রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরাও’-যোগ করেন তিনি।
‘নাশকতা ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু’- উল্লেখ করেন মামুন।
একই সুরে কথা বললেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তার ভাষ্য, শ্রমিকদের দাবিকে পুঁজি করে কেউ যেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে, সে জন্যই সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।





