মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে তারেক রহমানের সফর

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য স্ট্রেইট লাইনের সংবাদে এ ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া আছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে এ সফর। কুয়ালালামপুরভিত্তিক প্রায় সব গণমাধ্যমেই এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর।
দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মালয়মেইলের অনইলাইন ভার্সন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দিয়ে ‘স্থায়ী রোহিঙ্গা সমাধানের জন্য আসিয়ানকে চাপ দিতে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছে’- শিরোনামে খবরটিকে প্রধান সংবাদ হিসেবে রেখেছে।
এতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ আসিয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করবে। যার মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিরসনে উভয় দেশই দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ’- শিরোনামে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ছবিসহ গুরুত্বসহকারে খবর প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় দৈনিক দ্য সান। এখানে বলা হয়েছে, সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বিস্তৃত করতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ের সামরিক সফর, কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং শুভেচ্ছা নৌ-বন্দর পরিদর্শনের মাধ্যমে সুদৃঢ় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চমৎকার ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।
‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দিতে বলেছেন’- শিরোনামে মালয়েশিয়ার আরেক সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’ সংবাদ ছেপেছে। যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার বলেছেন, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। বিদেশি শ্রমিক শোষণের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে উভয় নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদটিতে বলা হয়, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়া একটি প্রধান গন্তব্যস্থল। যাদের পাঠানো রেমিটেন্স এই দক্ষিণ এশীয় দেশটির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে, ঋণদাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমের খবরের জেরে কুয়ালালামপুর ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যেখানে মালয়েশিয়ায় চাকরি নিশ্চিত করতে শ্রমিকরা বিপুল পরিমাণ ঋণে জর্জরিত হচ্ছে।
কুয়ালামপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ‘মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গা সমস্যা যৌথভাবে সমাধান করবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ’- সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদটির পাশাপাশি দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছেন’- এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য স্ট্রেইট লাইন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেছেন, আমরা একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছি এবং মালয়েশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই সুযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন ভাষা ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে সফরকে বেশ গুরুত্বসহকারে সংবাদে উপস্থাপন করেছে।




