চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে সৌদিতে বন্দিজীবন
- বাসায় আটকে নির্যাতন করে টাকা দাবি
- মরুভূমিতে পালিয়ে আশ্রয়

মানবপাচার চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি
সৌদি আরবে ফাস্টফুডের দোকানে ভালো চাকরি। মাসে মোটা বেতন, বৈধ আকামা আর নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে এক বাংলাদেশির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ৬ লাখ টাকা। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর বদলে যায় সব হিসাব। চাকরির বদলে তাকে একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। আকামা করে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে চাওয়া হয় আরও টাকা। সেই টাকা আদায়ে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতনও। শেষ পর্যন্ত জীবন বাঁচাতে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয় ভুক্তভোগীকে। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর দেশে ফেরত আসেন তিনি। আর দেশে ফিরে করা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ।
এ ঘটনায় চক্রটির এক সদস্য মো. সালমান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)।
মামলার এজাহার ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায় একটি মানবপাচারকারী চক্র। সেখানে ফাস্টফুডের দোকানে কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবে রাজি হলে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় ৬ লাখ টাকা। টাকা নেওয়ার পর গত বছরের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পরই ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তাকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি তাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে একটি বাসায় আটকে রাখেন। বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না তার। একপর্যায়ে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে বিদেশের মাটিতে একদিকে চাকরিহীন অবস্থায় বন্দিজীবন, অন্যদিকে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের চাপ, সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে একটি মরুভূমি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় অন্য এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন।
নানা প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের গত ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদি হয়ে ঢাকার সাভার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে ভুক্তভোগী যে বাসায় আটক ছিলেন, সেটিও সালমানের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে সত্যতা মিলেছে।
সিআইডি চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামি, দেশে-বিদেশে থাকা সহযোগী এবং এ চক্রের সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।







