ডার্ক ওয়েবে নাগরিকের তথ্য বিক্রি, গ্রেপ্তার ৫

সংগৃহীত ছবি
ডার্ক ওয়েবে দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন নওগাঁর আব্দুস সালাম সরকার, গাজীপুরের সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালীর ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জের এসএম নাফি এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মো. মেহেদী হাসান। র্যাবের দাবি, অনলাইনে বিক্রি করা তথ্যগুলো সরকারি সার্ভারের। তবে এই চক্রটি কাদের মাধ্যমে সরকারি সার্ভারের তথ্য পেত, সেটি তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না। তারা বলছেন, সম্প্রতি এমন ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে কিনতে পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রবিবার বিকালে র্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেছেন, অনলাইনে তথ্য বিক্রিতে জড়িতদের তালিকা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আবদুস সালাম সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির জন্য গত এপ্রিলে ‘ই সেবা টোয়েন্টিফোর ডট টপ’ নামে একটি ‘এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট’ তৈরি করেছিলেন। যেখানে অর্ডার দিলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সব ধরনের তথ্য গ্রাহককে সরবরাহ করতেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে মোবাইল সিমের লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, সিডিআর, সিমের মালিকানা তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেন বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রি করে আসছিলেন।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে আসছিলেন। তারা অর্থ লেনদেনের জন্য বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছিলেন বলেও জানিয়েছে র্যাব।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানিয়েছেন, আবদুস সালাম ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিল। তারা গ্রাহকদের টাকার বিনিময়ে সঠিক তথ্যই সরবরাহ করছিল, যেহেতু সরকারি সার্ভার ব্যবহার করে তথ্যগুলো সংগ্রহ করত তারা।



