পর্যটনের প্রসারে কূটনীতিকদের সঙ্গে ট্যুরিজম বোর্ডের মতবিনিময়

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা, ইনবাউন্ড পর্যটন বৃদ্ধি এবং পর্যটনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) আয়োজিত ‘কানেক্টিং ডেসটিনেশন বাংলাদেশ : ট্যুরিজম অ্যাজ আ ব্রিজ ফর পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন তারা।
গতকাল বুধবার আয়োজিত এ সভায় ভুটান, চীন, ওমান, সিঙ্গাপুর, ইরান, আলজেরিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী সভায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, পর্যটন শিল্পের প্রসারে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে করণীয় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ ও পর্যটন শিল্পের সার্বিক বিষয় তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।
উপস্থাপনা শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন কেন্দ্রিক সহযোগিতা প্রসারের ওপর মতামত ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সুন্দরবন ও সিলেটের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, ধর্মীয় স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের পর্যটনসম্পদ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন পণ্য ও অভিজ্ঞতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়াও সোর্স মার্কেটিভিত্তিক অফারিংস ও বিপণন কৌশল গ্রহণের ব্যাপারে মতামত প্রদান করেন।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে উপস্থাপন না করে এগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারার গল্পকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিজ্যুয়াল বেজড স্টোরি টেলিং ও আধুনিক প্রযুক্তি বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আবর্ত করে প্রচার বিপণন ও ব্রান্ডিং কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অংশ নিয়ে বেসরকারি ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরের প্রতিনিধিরা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন আকর্ষণকে কেন্দ্র করে আকর্ষণীয় প্যাকেজ ট্যুর তৈরি ও সোর্স মার্কেট কেন্দ্রিক মার্কেট লিংকেজ প্রতিষ্ঠায় সবার সম্মিলিত সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানায়, তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানুষের আতিথেয়তাকে তুলে ধরতে আগামী দিনগুলোয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ব্রান্ডিং, ইতিবাচক কান্ট্রি পজিসনিং ও বাংলাদেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে এবং এতে করে পারস্পারিক পর্যটন বিষয়ক সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হবে।



