পিএসসি সভায় অসন্তোষ প্রকাশ
মিরপুরে তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স নির্মাণে ধীরগতি
- নির্দিষ্ট মেয়াদে বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডে কমপ্লেক্স নির্মাণে বিরাজ করছে ধীরগতি। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স স্থাপন, মিরপুর, ঢাকা’ প্রকল্পের প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ওই সভায় বাস্তবায়নের গতি কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০২৪ সালের জুলাই হতে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক ব্যয় ২৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতির হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
সভায় প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) দেবাশীষ নাগ বলেছেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাড়াতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ই-ইন-সি শাখার সঙ্গে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পের অনুকূলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে। প্রকল্পের ভিতর মসজিদ এবং আনসার ক্যাম্প অন্যত্র শিফট করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ই-ইন-সি শাখাকে প্রকল্পের সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘এর মধ্যে ই-ইন-সি শাখা পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তর হতে ভবনের নকশার প্রাথমিক ভেটিং পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে সাময়িক অনাপত্তি পাওয়া গেছে। স্থাপত্য অধিদপ্তর হতে ভবনের নকশার প্রাথমিক ভেটিং পাওয়ার পরে ই-ইন-সির নিয়োজিত সেবা কনসালট্যান্সি সংস্থা কাঠামোগত নকশা তৈরিসহ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি জানালেন, বর্তমানে ভবনের প্রথম বেজমেন্ট এবং দ্বিতীয় বেজমেন্টের কলাম, রিটেইনিং ওয়াল, সিঁড়ি, লিফটকোর রড বাইন্ডিংসহ সাটারিং কাজসহ ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে। প্রথম তলায় ছাদ ঢালাই হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই এ মাসেই শেষ করার কথা। এখন পর্যন্ত কাজের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট স্বল্পতার কারণে প্রকল্পের সীমানা প্রাচীর, অর্নামেন্টাল ওয়ার্ক ও বার্বেড ওয়ার ফেন্সিং নির্মাণ কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে অংশ নেওয়া অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেছেন, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অগ্রগতি খুবই কম। পূর্ত নির্মাণ কাজের বাইরেও মেশিনারিজ, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং অফিস সরঞ্জামাদি কেনার বিষয় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। ফলে প্রকল্পের সংশোধিত আরডিপিপি (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অতিদ্রুত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
বৈঠকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মহাপরিচালক রোকেয়া খাতুন বলেছেন, মাসভিত্তিক প্রকল্পের প্রোগ্রেস রিপোর্ট ইপিএমআইএস সফটওয়্যারে আপডেট করতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের যুগ্মপ্রধান জান্নাত উল ফেরদৌস বলেছেন, প্রকল্পের পিএসসি এবং পিআইসি সভাগুলো নিয়মিত করতে হবে। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) জানালেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর পিএসসি এবং পিআইসি সভাগুলো নিয়মিত করা হয়। কিন্তু এ মাসে পিআইসি সভা করা হয়নি তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পিআইসি সভা আয়োজন করা হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) বলেছেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অগ্রাধিকার প্রকল্প বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প পরিচালক মাসে কমপক্ষে দুইবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে পারেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্রকল্পটি যেহেতু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোনীত প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে।
বৈঠকের সভাপতি বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বৈঠকে বলেছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু এবং অনুমোদিত ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী ১০ তলা মূল ভবনের নির্মাণ কাজ সুন্দরভাবে করতে হবে। তিনি বলেছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো— দুটি বেজমেন্টসহ ১০ তলার ভিতের ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা। এ ছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, অর্নামেন্টাল ওয়ার্ক ও বার্বেডওয়ার ফেন্সিং নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।



