জহির রায়হান মিলনায়তনে শুরু ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নাগরিকদের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে আট দিনব্যাপী ‘ঢাকা নাট্যোৎসব ২০২৬’। ‘উৎসবে, গর্বে, দায়িত্বে’ প্রতিপাদ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাসব্যাপী আয়োজন ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’-এর অংশ হিসেবে এ নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে আজ রবিবার বিকেলে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘ঢাকা নাট্যোৎসব ২০২৬’-এর সমন্বয়কারী খন্দকার শাহ আলম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানসহ অনেকে।
আয়োজকেরা জানান, আট দিনের এ উৎসবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে মোট আটটি নাটক মঞ্চায়ন হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল থেকে মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আবদুস সালাম বলেন, “ঢাকা শহরে আমরা অনেকেই বসবাস করি। কেউ জন্মসূত্রে, কেউ জীবিকার জন্য, আবার কেউ শিক্ষার জন্য। কেউ স্থায়ীভাবে আবার কেউ অস্থায়ীভাবে। কিন্তু এই শহর আমাদের আশ্রয় দিয়েছে—এই সূত্রে আমরা সবাই এই শহরের নাগরিক। কিন্তু চারশ বছরের বেশি বয়সী এই রাজধানীর ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে দৃঢ় বন্ধন না থাকায় এই শহরকে আমরা অনেকেই আপন করে নিতে পারিনি।”
তিনি বলেন, “নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষাসহ সার্বিক বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নাগরিকদের কাছে রাজধানী ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি তুলে ধরে তাঁদের হৃদয়ে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরির জন্যই এই আয়োজন।”
নাট্যোৎসব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এই নাট্যোৎসবে দর্শকরা এই শহরকেন্দ্রিক কালজয়ী নাটকগুলো যেমন দেখতে পাবেন, তেমনি জহির রায়হান মিলনায়তনও নতুন উদ্যমে সচল হবে। নাটকের পাশাপাশি মিলনায়তন প্রাঙ্গণের সাংস্কৃতিক উৎসব ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকার আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নাগরিকদের কাছে তুলে ধরাই আমাদের কাম্য।”
উৎসবের সমন্বয়কারী খন্দকার শাহ আলম বলেন, “নাটক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছি আদি ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী নাটকগুলো নির্বাচন করতে। উপরন্তু নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তিতে আদি ও নতুন ঢাকার নস্টালজিয়া ফুটে উঠবে বলেই আমার বিশ্বাস। উৎসবে জ্ঞান ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে ঢাকার আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই উৎসবের লক্ষ্য।”
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর প্রথম সন্ধ্যায় মঞ্চায়ন হয় গ্রন্থিক নাট্যদল প্রযোজিত নাটক ‘গিরগিটি’। আগামীকাল সোমবার মঞ্চায়ন হবে শৌখিন নাট্যদলের ‘অন্তরালে আয়না’। মঙ্গলবার মৈত্রী থিয়েটারের ‘রঙিলা ফানুস’, বুধবার নবনাট প্রযোজিত ‘ভেলকি’ এবং বৃহস্পতিবার শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘চম্পাবতী’ মঞ্চস্থ হবে।
শুক্রবার ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ প্রযোজিত ‘ঘরজামাই’ এবং শনিবার স্বরবিথী থিয়েটারের ‘শাস্তি’ মঞ্চায়ন হবে। আগামী রবিবার সমাপনী সন্ধ্যায় মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায়ের ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে আট দিনের নাট্যোৎসবের পর্দা নামবে।







