‘শাপলাকুঁড়ি-২০২৬’ প্রতিযোগিতার তিন জোনের বাছাই শুরু

ছবি: আগামীর সময়
ক্ষুদে শিল্পীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৪তম জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলাকুঁড়ি-২০২৬’। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রাম জোনের প্রাথমিক বাছাই শুরু হয়েছে। কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের মাল্টিপারপাস ও সোশ্যাল গার্ডেন হলে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ বাছাই পর্ব চলবে বুধবার পর্যন্ত। এদিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আয়োজকরা জানান, এর আগে ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ জোনের প্রাথমিক বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ‘যেখানে প্রতিভা, সেখানেই আমরা’ প্রতিপাদ্যে ক্বেরাত, আবৃত্তি, অভিনয়, সংগীত, নৃত্য ও যন্ত্রসংগীত—এই ছয়টি বিষয়ে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশের ১২টি অঞ্চলের প্রাথমিক বিজয়ীরা প্রতিযোগিতার মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিষয়ভিত্তিক নির্বাচনে রয়েছে ১৫টি একক ও তিনটি দলীয় বিভাগ। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ তিনটি একক ও একটি দলীয় বিষয়ে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে দুটি বিভাগে দুজনকে ‘শাপলাকুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন’ নির্বাচিত করা হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের চোখে স্বপ্ন আছে, তোমাদের সামনে ভবিষ্যৎ আছে। আজকের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হয়তো কেউ উত্তীর্ণ হবে, কেউ হয়তো উত্তীর্ণ হতে পারবে না। কিন্তু এই যে আজকের এই প্রতিযোগিতা, এই প্রতিযোগিতায় যে স্বপ্ন নিয়ে, যে আশা নিয়ে, যে প্রত্যাশা নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছ— এই যে তোমার সাহসিকতা বা এই যে তোমার ছোট্ট এই বয়সে তোমার এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তোমার সেই শিশু প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য চেষ্টা করা, আমি এটাকে সবসময় অ্যাপ্রিশিয়েট করি।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তানরা এখানে আজকে হয়তো সংগীত পরিবেশন করবে, এই সংগীত পরিবেশনই হয়তো শেষ নয়। এর মধ্য দিয়ে একটি শিশু আগামী দিন হয়তো ডাক্তার হবে, প্রকৌশলী/ইঞ্জিনিয়ার হবে, শিক্ষক হবে, শিল্পী হবে, সাহিত্যকর্মী হবে তার জীবন চলার পথে কোনো না কোনো এক জায়গায় হয়তো সে গন্তব্যে পৌঁছাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি মানুষের জীবনে তার যদি সঙ্গীত থাকে, সে মানুষটা কিন্তু হাজারো অবসাদ সত্ত্বেও তার মনে একটি তৃপ্তি আসে, শান্তি আসে। কারণ আমরা বিশেষ করে আমাদের জীবনের সায়াহ্নে এসে আমরা দেখেছি যে আমি যতই সুপ্রতিষ্ঠিত হই না কেন, আমি যতই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হই না কেন— কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের কিছু সঙ্গীত আছে, যে সঙ্গীতগুলো আমাদের প্রাণের ভোমরা হয়ে আমাদেরকে সবসময় উৎসাহ দেয়, উদ্দীপনা দেয় এবং অবসর মুহূর্তগুলো আমাদের সেইভাবে একটি নিবিড়, একটি মানসিক প্রশান্তি তৈরি করে।’
এ সময় জিয়া শিশুকিশোর একাডেমির মহাপরিচালক হুমায়ুন কবিরসহ প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারক, প্রতিযোগী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।




