কবি আল মাহমুদের জন্মদিন আজ
- ‘সোনালী কাবিন পদক’ পাচ্ছেন আবদুল হাই শিকদার

ছবি: আগামীর সময়
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত আল মাহমুদের ৯০তম জন্মদিন আজ (১১ জুলাই)। বহুমাত্রিক কাব্যভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের অনন্য রূপকার হিসেবে বাংলা কবিতায় তিনি এক কালজয়ী ধারা নির্মাণ করে গেছেন।
কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ’ তিন দিনব্যাপী এক স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে।
আজ শনিবার আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, সংগীতায়োজন এবং পদক দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপনী ঘটবে। এর আগে বৃহস্পতিবার এই আয়োজন শুরু হয়েছিল।
উৎসবে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি, সাহিত্যিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারকে ‘সোনালী কাবিন পদক’ দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের সমাপনী আয়োজনে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
জীবন ও সাহিত্যকীর্তি
১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল এলাকায় জন্ম নেন মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ, যিনি সাহিত্যজগতে ‘আল মাহমুদ’ নামে পরিচিত। ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান জানান দেন তিনি।
এরপর ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত তার যুগান্তকারী কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালী কাবিন’ তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করে। ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ এবং আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারে তার কবিতা এক অনন্য শিল্পরূপ লাভ করেছে।
কবিতার পাশাপাশি কথাসাহিত্য, শিশুসাহিত্য ও সাংবাদিকতায়ও আল মাহমুদ সমান অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কবির মৃত্যু হয়।




