বেঙ্গল শিল্পালয়ে রাশেদ জামানের দৃশ্যশিল্প প্রদর্শনী ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’

ছবি: আগামীর সময়
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক ও শিল্পী রাশেদ জামানের একক দৃশ্যশিল্প প্রদর্শনী ‘দ্য কোয়ায়েট উইদিন’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ের লেভেল ১-এর কামরুল হাসান প্রদর্শনী কক্ষে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ড. রুডিগার লোটজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ প্রতিটি ফ্রেমের পেছনের গল্প এবং প্রদর্শিত আলোকচিত্রগুলোর প্রতি গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
প্রদর্শনীর শৈল্পিক গভীরতা তুলে ধরে শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সমসাময়িক জীবনের ব্যস্ততা ও নানা প্রতিকূলতার ভিড়ে যখন আমরা বিভ্রান্ত, ঠিক সেই সময়ে একটু থেমে আত্মউপলব্ধির এই আহ্বান কোনোভাবেই হেলাফেলা করার মতো নয়। রাশেদ জামানের ছবিতে একজন চিত্রশিল্পীর সংবেদনশীলতা স্পষ্ট—যে আলোকচিত্রগুলো চলচ্চিত্র, পর্যবেক্ষণ এবং স্মৃতির মাঝে এক কাব্যিক মেলবন্ধন তৈরি করে।”
শিল্পী ও চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমার সবসময় মনে হয়েছে আমাদের স্রষ্টাই সবচেয়ে বড় ‘সিনেমাটোগ্রাফার’, যিনি প্রতিনিয়ত আলো নিয়ে খেলা করছেন। যে আলো আমাদের আত্মাকে আধ্যাত্মিকভাবে প্রভাবিত করে, সুযোগ পেলেই আমি এই ঘনবসতিপূর্ণ শহর ছেড়ে খোলা ক্যানভাসের খোঁজে বেরিয়ে পড়ি। আমি আশা করি এই সৃষ্টিগুলো সবাইকে একটু থমকে দাঁড়াতে, গভীরভাবে দেখতে এবং নিজের ভেতরে থাকা সেই প্রশান্তি বা নীরবতাকে নতুন করে আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
প্রদর্শনীটি গতি ও স্তব্ধতার সীমানায় এক গভীর ধ্যানমগ্নতার মতো। এখানে সময়ের ক্ষণস্থায়ী স্পন্দন প্রকৃতির চিরন্তন রূপের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। রাশেদ জামানের আলোকচিত্রগুলো সাধারণ কোনো দৃশ্যের নথিবদ্ধকরণ নয়; আলো-ছায়ার সূক্ষ্ম খেলা, সংযত রঙের ব্যবহার এবং বিস্তৃত ‘নেগেটিভ স্পেস’-এর মাধ্যমে এগুলো দর্শককে নিয়ে যায় গভীর অনুভূতির জগতে।
রাশেদ জামান শৈশবে চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরবর্তীতে তাঁর সৃজনশীল যাত্রা ক্যামেরার পেছনেই পূর্ণতা পায়। তবে তাঁর কাজে একজন চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই অমলিন। কোলাহল ও ব্যস্ততাকে একপাশে সরিয়ে তিনি সৌন্দর্য, ভঙ্গুরতা, সহনশীলতা এবং মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির ভেতরের নীরব মেলবন্ধনকে খুঁজে পেতে চেয়েছেন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা দেওয়া অচেনা ও দূরবর্তী ল্যান্ডস্কেপগুলো কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই সত্যকে তুলে ধরে—যেখানে সময় যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায়।






