শহীদ মিনারে শতকণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’

বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে স্মরণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। এ সময় কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানটির শতকণ্ঠে শতবর্ষ উদযাপন এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতকণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ পরিবেশনের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নৃত্যশিল্পী অনিক বসুর পরিচালনায় এতে অংশ নেন স্পন্দনের নৃত্যশিল্পীরা। বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত বিভিন্ন দলের শিল্পীরাও শতকণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা ও শিল্পবৃত্তের ৫০ জন শিশু-কিশোর আবৃত্তি পরিবেশন করে। পরিষদভুক্ত বিভিন্ন দল নজরুলের চেতনার গান, সুকান্তের দ্রোহের গান ও রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের গান দলীয়ভাবে পরিবেশন করে। সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তার রচিত ‘পুরনো ধাঁধা’ ছড়ার সঙ্গীত ও আবৃত্তিও পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া তিন কবিকে স্মরণ করে বরেণ্য শিল্পীদের একক আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।
‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ রচনার সময়ে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘মন্দির ও মসজিদ’ পাঠ করেন চিত্রশিল্পী জাহিদ মোস্তফা। একক আবৃত্তি করেন ইকবার খোরশেদ জাফর, মাহফুজা মিরা ও সাফিয়া খন্দকার রেখা।
গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত দলগুলোর মধ্যে ঋষিজ পরিবেশন করে নজরুলের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ ও সুকান্তের ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন’। ক্রান্তি পরিবেশন করে নজরুলের ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ ও ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠো রে’। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে নজরুলের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ ও সুকান্তের ‘হে মহামানব শুধু একবার এসো ফিরে’।
রংধনু পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘খরবায়ু বয় বেগে’ ও নজরুলের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’। বহ্নিশিখা পরিবেশন করে সুকান্তের ‘কারা যেন আজ দুহাত খুলেছে’। আনন্দন পরিবেশন করে সুকান্তের ‘হে সাথী আজকে স্বপ্নের দিন’ ও রবীন্দ্রনাথের ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা’। সপ্তরেখা পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ ও ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।
সমস্বর পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘নাই নাই ভয়’ ও ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’। মিরপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি পরিবেশন করে সুকান্তের ‘হে মহাজীবন আর’ ও ‘বলতে পারো বড়লোকে’। পদ্মশ্রী পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘এবার তোর মরা গাঙে’ ও ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয়’। ভিন্নধারা পরিবেশন করে নজরুলের ‘শিকল পড়া ছল’ ও ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’। সুরধ্বনী পরিবেশন করে নজরুলের ‘জয় হোক, জয় হোক’ ও রবীন্দ্রনাথের ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা’।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য, সংগীত ও চেতনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন কবির সৃষ্টিকর্ম ও ভাবনাকে স্মরণ করা হয়।








