তরুণ লেখকরাই বাংলাদেশ-চীন সেতুবন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আজ সোমবার ‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকার চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত পুরনো ও গভীর। আগামী দিনগুলোয় এ সম্পর্ক আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।’
দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের লেখকরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইয়ের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. আবু কাউসার স্বপন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। সহযোগিতা করেন অ্যাবকার সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার।
সহ-আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান। বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কনক পারভেজ। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত ছিল। এ সময়ে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা প্রতিযোগিতায় জমা পড়ে। বিচারকদের যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর তিনটি বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন, দ্বিতীয় মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় এ কে এম কানক পারভেজ। ‘চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ মনসুর আলম, দ্বিতীয় মো. আবু কাওসার এবং তৃতীয় মো. মনজুরুল হাসান। ‘চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটন গন্তব্য’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম, দ্বিতীয় আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় মোহাম্মদ শোয়াইব।
তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রতিযোগিতায় জমা পড়া লেখাগুলো মূল্যায়ন করেন। প্যানেলের সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বশির উদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মিরাজ আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর সওদাগার মেজবাহ আলম, অ্যাবকার যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হাসান, বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ আদিল এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ড. জান্নাতুল আরিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।






