উদ্বোধনের আগেই বানিয়াচংয়ে শেষ নজরুল বর্ষের আয়োজন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধন করেছেন। তবে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন সেই আয়োজন সম্পন্ন করেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই। গত ১৮ থেকে ২০ জুন উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল বর্ষ উদ্যাপন। তিন দিনের এই আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করেন বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদা বেগম সাথী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেভাবেই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আবারও এ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এখন তো আর আয়োজন করার প্রস্তুতি নেই।
কেন আগেই অনুষ্ঠান?
২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। পরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ১৮ থেকে ২০ জুন দেশব্যাপী তিন দিনব্যাপী বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।
এই উপলক্ষে দেশের ৬৪টি জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের জন্য মোট ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিটি জেলা প্রশাসনের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলার প্রতিটির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ এবং অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালেই হঠাৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৭ জুন জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত সময়সূচি পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।
তবে স্থগিতাদেশের খবর দেরিতে পৌঁছানোয় বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কর্মসূচি আয়োজন সম্পন্ন করে। এদিকে ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘নজরুল বর্ষ’-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নজরুল বর্ষ উদ্যাপনের লক্ষ্যে আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। বেশ কয়েকজন নজরুল গবেষক এবং নজরুলসংগীত শিল্পীরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। আপনাদেরকে অভিনন্দন। তবে একটি আধুনিক আবদ্ধ ঘরে বসে আজ যেভাবে “নজরুল বর্ষ” উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করছি, স্মারক ডাক টিকিট এবং লোগো উন্মোচন করছি, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে আমি একটু ভিন্নভাবেই আশা করেছিলাম।’
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের ভাষা নিয়েও খেদ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে… “সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন”; এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা থাকত ‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুলশিল্পী, নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’, সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।’
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এই উপলব্ধির কারণ হলো, “ফ্যামিলি কার্ড” কিংবা “কৃষক কার্ড” বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয়, “নজরুল গবেষক, নজরুলসংগীত শিল্পী, নজরুলপ্রেমী মানুষেরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন। এটি যেমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না, ঠিক একইভাবে, একই কারণে নজরুল বর্ষ উদ্যাপনে ‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন” কথাটিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।’




