২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত হবেন আহমদ ছফা
- একটা অবিচারের অবসান হলো: সলিমুল্লাহ খান
- আহমদ ছফাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার দাবি

ফাইল ছবি
লেখক ও চিন্তক আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আহমদ ছফার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আহমদ ছফা মারা যাওয়ার পর তাকে সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের অনীহার কারণে আহমদ ছফা একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
সাধারণ কবরটি ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় জানিয়ে নূরুল আনোয়ার বলেছেন, ‘ওই কবরটি তো নির্ধারিত সময়ের পর ভেঙে দেওয়া হবে। এ জন্য আমরা চেয়েছি তার কবরটি যেন বুদ্ধিজীবীদের যে অংশটি আছে, সেখানে স্থানান্তর করা হয়। আহমদ ছফার কবরটি যেন স্থায়ীভাবে রাখা হয়, এ জন্যই আবেদনটি করা হয়।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি শুরু হয় বলে জানান নূরুল আনোয়ার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি অনুমোদিত হয়েছে।
নূরুল আনোয়ার বলেছেন, ‘আশা করি এবার কবরটি স্থায়ী হবে। আহমদ ছফার কবর স্থানান্তর করা হলেই যে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হবে, এটা মনে করি না। তবে নতুন প্রজন্ম যেন তার কবরটি দেখতে যেতে পারে। সেই স্মৃতিটুকু রাখার জন্যই এটি করা হয়েছে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এটুকু বলা যায়, পজিটিভ কিছুই হচ্ছে।’
প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, ‘আহমদ ছফা কি বুদ্ধিজীবী নন? তবে তাকে বুদ্ধিজীবীদের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়নি কেন? এটা ছিল অবিচার। একটা অবিচারের অবসান হচ্ছে। ২০০১ সালের ২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা সম্ভব হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল, আর বর্তমান সরকার সেটি করছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
আহমদ ছফা এখনো স্বাধীনতা পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। তিনি বলেছেন, ‘আহমদ ছফা এখনো স্বাধীনতা পুরস্কার পাননি। এটা দুঃখজনক। আগামী বছর যেন তাকে এই পুরস্কারে মনোনীত করা হয়, এ দাবি জানাই।’
দেরিতে হলেও রাষ্ট্র আহমদ ছফাকে বুদ্ধিজীবীদের কবরে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে নাসির আলী মামুন বলেছেন, ‘এটি অবশ্যই ভালো খবর। আহমদ ছফা অতীতে কোনো সরকারের কাছেই সঠিক মূল্যায়ন পাননি। বর্তমান সরকার তার কবরটি বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করবে, এটি মনে করি তাকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এটাও সরকারের কাছে বলতে চাই, কেবল মৃত্যুর পর সম্মান দিলে চলবে না। জীবিত অবস্থায়ও গুণিজনদের সম্মান জানাতে হবে। যে লেখক, কবি ও সাহিত্যিক। শিল্পীরা জীবিত আছেন। তাদের খোঁজ নিতে হবে। সরকার যেন এ ব্যাপারে তৎপর হয়।’




