সংস্কৃতিকর্মীদের প্রশ্ন
সন্ধ্যা ৭টার পর নাটক গান সিনেমাও কি বন্ধ থাকবে?

প্রেক্ষাগৃহে চলছে ‘বনলতা সেন’
বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন এলাকায় চলমান ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেলা, বাণিজ্যমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এই নির্দেশনার আওতায় জেনারেটর ব্যবহার করে এবং মিলনায়তনের ভেতরে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে কি না সে প্রশ্ন সংস্কৃতিকর্মীদের।
তাছাড়া দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে সন্ধ্যা ৭টার পর চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে কি না তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু নেই সরকারি নির্দেশনায়। এ নিয়ে বিভ্রান্ত অনেকে। এই অবস্থায় সংস্কৃতিকর্মীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সন্ধ্যা ৭টার পর নাটক, গান, সিনেমাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কি বন্ধ থাকবে?
সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানগুলো সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সব বিলবোর্ডের বাতি আবশ্যিকভাবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠেয় মেলা/বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা জারি হয়। পরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১ জুন থেকে বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়। এই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এবং অনুষ্ঠেয় মেলা/বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।
থিয়েটার পত্রিকা ক্ষ্যাপার নির্বাহী সম্পাদক ও আরণ্যক নাট্যদলের অপু মেহেদী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি, মহিলা সমিতিসহ ঢাকার কয়েকটি মিলনায়তনে নাটকের প্রদর্শনী হয়। এগুলো তো মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়। এখন সরকারের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা উচিত, আউটডোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাকি ইনডোর অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাছাড়া কেউ যদি জেনারেটর ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, সেটা করা যাবে কি না, এই বিজ্ঞপ্তিতে বোঝা যায় না। অনেক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে, যেগুলো বহু বছর ধরে সন্ধ্যার পরই আয়োজিত হয়। সরকারের উচিত মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্দেশনাটি পর্যালোচনা করা।’
‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মঙ্গলবার ‘পূর্ণিমা সন্ধ্যা’ নামে একটি অনুষ্ঠান হবে। এই আয়োজনটি অনেকদিন ধরে প্রতি মাসে আয়োজিত হয় এবং এটি সন্ধ্যার পরই হয়। আগামী শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। এই নির্দেশনায় এসব অনুষ্ঠানও কি করা যাবে না? ঈদের মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কি হবে? সেটা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে’, আগামীর সময়কে বলছিলেন নাট্যশিল্পী সাইফুল জার্নাল।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের তিনজন উপসচিবের সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তারা কেউই নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা যেরকম নির্দেশনা পেয়েছি, সে অনুযায়ী চিঠি তৈরি করেছি। সংস্কৃতিকর্মী বা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন। তাহলে হয়তো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’
যদিও সন্ধ্যা ৭টার পর জেনারেটর ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন ‘করা যাবে’ বলে জানান ওই কর্মকর্তা।






