লালন ফকিরকে ‘বিকৃত’ করার অভিযোগ, শিল্পকলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের হাতে প্রতিবাদলিপি তুলে দেওয়া হয়
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় লালন ফকির, নদীয়ার সাধনাধারা ও সাধুসমাজ নিয়ে বিকৃত উপস্থাপনার অভিযোগ তুলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দেওয়া হয়েছে প্রতিবাদলিপি। আজ বৃহস্পতিবার সাধু-গুরু, ভক্ত-অনুরাগী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের হাতে এ প্রতিবাদলিপি তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, কবি মোহাম্মদ রোমেল, জসিম উদ্দীন, আহসান প্রলয়, মিন্টু ঠাকুরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদকারীরা বলেছেন, ‘লালন ফকিরকে বিকৃত করা মানে বাংলার ভাবধারা বিকৃত করা। সাধু-গুরুদের বাদ দিয়ে সাধুমেলা করা মানে সাধনাকে অপমান করা। জনগণের টাকায় লালনবিরোধী ধান্দা চালানো মানে জনগণের সাংস্কৃতিক অধিকার লঙ্ঘন করা।’
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, শিল্পকলা একাডেমি গত ২৯ জুন ‘পূর্ণিমা তিথির সাধুমেলা’ এবং ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ‘লালন দর্শন ও লালন সংগীতবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ আয়োজন করে। এতে দাবি করা হয়, ফকির লালন শাহ শুধু লোকসংগীতের শিল্পী নন; তিনি বাংলার মানুষতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, মুর্শিদি সাধনা ও নদীয়ার ফকিরি ধারার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি। তাই তাকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধুসমাজ, আখড়া, ধাম ও গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, বর্তমান আয়োজনেও লালনকে ‘বাউল ব্র্যান্ড’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ‘সাধুমেলা’ নামে আয়োজন হলেও সেখানে প্রকৃত সাধু-গুরু ও নদীয়ার সাধনাধারার প্রতিনিধিদের যথাযথ অংশগ্রহণ নেই। পাশাপাশি প্রশিক্ষক নির্বাচনের মানদণ্ডও স্পষ্ট নয়। লালনের সুর, ভাব ও গায়কী বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষক করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, শিল্পকলা একাডেমির প্রচারপত্রে ব্যবহৃত ভিজ্যুয়ালে লালন ধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, লালন ধারার সাধুরা গেরুয়া পোশাক পরেন না; তাই এ ধরনের উপস্থাপনা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিকৃতির শামিল। এছাড়া বিগত সময়ে সাংস্কৃতিক সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন, শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর আমলের অনিয়ম ও সাংস্কৃতিক দখলদারির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— লালনের নামে বিকৃতি বন্ধ, সাধুমেলায় প্রকৃত সাধু-গুরুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, প্রশিক্ষক নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ, লালন একাডেমিকে জাতীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া, সাধনক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিভ্রান্তিকর প্রতীক ব্যবহার বন্ধ, শিল্পকলা একাডেমির অতীত অনিয়মের তদন্ত এবং লালনের ভাবধারা ও সাধুসমাজের মর্যাদা রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান গ্রহণ।



