তারুণ্যের উন্মাদনায় ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’

ছবি: আগামীর সময়
দুপুর থেকেই সংগীতপ্রেমীরা আসতে শুরু করেন। আর বিকাল গড়াতেই তা রূপ নেয় জনারণ্যে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত হয় ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’। এতে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ও শিল্পীরা পারফর্ম করছেন।
হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘মেকানিক্স’-এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় কনসার্ট শুরু হয়। তারা দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজেয়’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর প্রয়াত ও সাবেক সদস্যদের স্মরণে তারা পরিবেশন করেন ‘নিয়তি’। পাশাপাশি ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ এবং তাদের প্রথম অ্যালবামের সুপারহিট গান ‘বিস্ময়’ গেয়ে দর্শকদের মাতায় ব্যান্ডটি। ৪০ মিনিটে তারা পাঁচটি গান পরিবেশন করেন। মেকানিক্সের দলনেতা ও ভোকালিস্ট আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব বলেন, ‘সমাজের নানা অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মাধ্যমেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চাই।’
এরপর মঞ্চে ওঠে ব্যান্ড শিরোনামহীন। তারা শুরুতেই পরিবেশন করে ‘পাখি’ গান। এরপর বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’ গেয়ে শোনায়। পরে দর্শকপ্রিয় গান ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ এবং ‘এই অবেলায়’, ‘আবার হাসি’ গানগুলো কনসার্টে পরিবেশন করে দলটি। শিরোনামহীনের দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কনসার্ট। কিন্তু আমাদের ব্যান্ড মিউজিয়াশানদের সংগঠন বামবা যুক্ত আছে।’
শিরোনামহীনের পর মঞ্চে পারফর্ম করে ‘আর্টসেল’, ‘ফিডব্যাক’। কনসার্টে আরও পারফর্ম করার কথা রয়েছে ‘ওয়ারফেজ’, ‘মাইলস ও ‘নগরবাউল জেমস’।
ওয়ারফেজ এর টিপু বলেন, ‘যেহেতু আজ ৭ নভেম্বর— ৭টি ব্যান্ড এবং ৭ ঘণ্টার অনুষ্ঠান, তাই আমরাও মঞ্চে ৭টি গান পরিবেশন করার চেষ্টা করব।’
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। আমরা চাই দর্শক যেন কোণায় কোণায় ভরে যায়। আমরা প্রতিটি জেলার শিল্পকলা একাডেমিতেও নানা প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি, যেন মানুষ আনন্দ করতে পারে এবং বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে পারে।’
বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন বামবার সহসভাপতি ও ওয়ারফেজ ব্যান্ডের শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, ‘বামবা যখনই কোনো কনসার্টে যুক্ত থাকে, সেটা আমাদের নিজেদের ঘরের আয়োজন। সেখানে আনন্দ, পরিবেশ এবং ডিসিপ্লিন সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। আমরা সবসময় ব্যান্ড নির্বাচন থেকে শুরু করে সাউন্ড, লাইট, স্টেজ লজিস্টিকস এবং নিরাপত্তার একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেন দর্শক-শ্রোতারা কনসার্টে এসে একটি উৎসবের মেজাজ পান এবং সানন্দে গান উপভোগ করতে পারেন।’



