জলবায়ু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত ‘দ্য টেস্ট অব হানি’

সেরা জুরি পুরস্কার গ্রহণ করছেন দ্য টেস্ট অব হানি টিম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ট্রেন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬। চলচ্চিত্র, সংলাপ ও অংশীদারিত্বের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উৎসব জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার উন্মোচন করেছে নতুন দিগন্ত।
শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। এতে সেরা জুরি পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য টেস্ট অব হানি’। এই সিনেমাটি যৌথ ভাবে পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান ও ফাবেহা মনির।
সেরা জলবায়ু চলচ্চিত্রের পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছনে যুক্তরাষ্ট্রের জেসন লিন্ডস পরিচালিত 'ব্রেকিং আইস: দ্য মেকিং অব ক্র্যাকস ইন দ্য আইস' এবং সিঙ্গাপুরের এলেইন লিম পরিচালিত ‘দ্য গার্ল অ্যান্ড হার পিয়ানো’। তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরস্কার অর্জন করে নরওয়ের মিনেটা ওয়েস্টারলান্ড পরিচালিত'ক্রিস্টিন হারিলা'।
উৎসবের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এই চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের জন্য জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনকে অভিনন্দন জানান এবং উৎসবটিকে নিয়মিত আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাজ পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী বার্তা থাকে এমন চলচ্চিত্রকে সরকারের অনুদান প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে বলেও জানান মন্ত্রী। পরিবেশ সংশ্লিষ্ট যেকোনো চলচ্চিত্রের প্রস্তাবকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, এই আয়োজনকে কেবল প্রথম আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতি বছর আরও পরিকল্পিতভাবে করা উচিত।
এর আগে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) পরিবেশ ও জীবন বিজ্ঞান অনুষদের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান। উৎসবে চলচ্চিত্র নির্মাতা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদাররা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, জলবায়ু সচেতনতাকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
উৎসবে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। জিটিসিএফ ২০২৬-এর প্রধান সমন্বয়কারী খালেদ শামস ‘জলবায়ু কার্যক্রমে গল্প বলা এবং সিনেমার ভূমিকা’ শীর্ষক মূল বক্তব্যে বলেছেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তা আচরণগত পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরে ইএসডিও-এর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ‘জলবায়ু পরিবর্তন: গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং যুবসমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক ফাবেহা মনির, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা ঝুমকি।
সমাপনী বক্তব্যে জিটিসিএফ ২০২৬-এর উৎসব পরিচালক ও জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম ঘোষণা করেন, আগামী মাসগুলোতে উৎসবটি দেশের ৬৪ জেলায় সম্প্রসারিত করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের জলবায়ু বিষয়ক গল্পকার হিসেবে প্রশিক্ষণ,‘অ্যাডপ্ট আ স্পেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কার্যক্রম এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।




