সেলিম আল দীনের নাটকগুলোতে বাঙালির নিজস্ব নাট্য-সংস্কৃতির কথা, নৃত্য, গীত ও চরিত্রাভিনয়ের রূপ নতুনভাবে বিকশিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাটকে যেখানে গীতের প্রভাব মুখ্য, সেখানে তার নাটকে বর্ণনাকে দেওয়া হয়েছে প্রাধান্য। কিত্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, প্রাচ্য, বনপাংশুল, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র— ইত্যাদি বাংলা নাটককে দিয়েছে নিজস্বতা। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, গাড়োয়ান, জেলে, রিকশাওয়ালা, পালকি নৃত্যক, বেহারা, কবিয়াল, ডোম, যাত্রাশিল্পী, মাঝি, মাল্লা, মুচি, বায়েন, হাড়-কুড়ানো, বয়াতি—
তৃণমূলের এ মানুষগুলোই তার নাটকের প্রাণভোমরা।
১৯৮৬ সালে তার হাত ধরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে নাট্যশিক্ষার এক প্রধান কেন্দ্র। ১৯৮১-৮২ সালের দিকে নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি, মাত্র ৫৯ বছর বয়সে এই ক্ষণজন্মা নাট্যকার বিদায় নেন। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন সেলিম আল দীনও বেঁচে থাকবেন—
কখনো বাংলা বাঁকবদলের কারিগর হয়ে, আবার কখনো আমাদের প্রিয় নাট্যাচার্য হয়ে।