পলক
আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম

এজলাসে তোলার সময় তাকে হাসিমুখে হাত দিয়ে ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করতে দেখা যায়। ছবি : আগামীর সময়
কারাগারে নিজের সুযোগ-সুবিধা চেয়ে কাঠগড়ায় বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমার ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎকের নির্দেশনা দিয়েছেন হেলমেট না পড়ানোর। আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তিনটা মামলার বিচার চলছে। আইসিটিতে সাক্ষী চলছে।
আজ রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে নেওয়া হয়। শুনানির এক পর্যায়ে এসব কথা বলেছেন পলক। আদালতে তার গলায় বেল্ট দেখা যায়। এ ছাড়া এজলাসে তোলার সময় তাকে হাসিমুখে হাত দিয়ে ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করতেও দেখা যায়।
তবে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দাবি করে পলক বলেছেন, ‘১৫ দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই।’
এসময় তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে দুই সপ্তাহে দুই দিন অন্তত তিন ঘণ্টা করে বিশেষভাবে কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করেন।
এদিন জুলাই আন্দোলনের মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ধার্য ছিল। এই মামলায় কারাগারে আটক পলকসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি প্রিভিলেন্স কমিউনিকেশন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।
এছাড়া অন্য আসামিদের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৩ আগস্ট অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তিও। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শেখ হাসিনা বাদে অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব।
এ ছাড়া আরও রয়েছেন শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোলডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল।





