একরামুল হত্যা
শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার সকালে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এদিন শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। সেই সাথে আজকের অভিযোগে থাকা আসামিদের মধ্যে যারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আছেন তাদের শোন অ্যারেস্ট করে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
যে ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম (তৎকালীন লে: কর্নেল), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন (তৎকালীন লে: কর্নেল), কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও কমান্ডার মো: আশেকুর রহমান সৈকত। এদের মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহবুব আলম।
আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
এর আগে ২০১৮ সালের ৪ মে দেশ জুড়ে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের মাদকবিরোধী অভিযান। ওই বছরের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক।
একরাম নিজেও আওয়ামী লীগে যুক্ত ছিলেন। টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। ১২ বছর ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।
ঘটনার সাত বছর পর গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।



