পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের শুনানি মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি
বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানি হয়। আংশিক শুনানি শেষে মামলাটি আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।
শুনানি শেষে ড. শরীফ ভূঁইয়া বললেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী শুধু একটি সংশোধনী নয়। এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী ঠেকাতে পুরো সংশোধনী বাতিল হওয়া উচিত।’
তিনি বললেন, ‘হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ খুলে দিলেও সংশ্লিষ্ট সব বিধান পুনর্বহাল হয়নি। আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত ২০ ও ২১ ধারা, সংবিধানে সংযোজিত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। পাশাপাশি গণভোটসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। একটি করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজন, একটি করেন নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং অপরটি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ তিনটি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলে নিয়মিত আপিলের পথ উন্মুক্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার শুনানি শুরু হয়।
আপিলে ইন্টারভেনার (পক্ষভুক্ত) হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী যুক্ত হয়েছেন।



