নিউগিনি প্রপার্টিজে ভাঙচুর, শাহিনুজ্জামান কারাগারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্পে ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন আসামি মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান। আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানের জামিন আবেদনও নাকচ করেছেন আদালত।
এদিন শাহিনুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুল বাতেন মিয়াজী তার জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, হাজতি আসামি মিজানুর রহমানের পক্ষেও জামিন চাওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দুটি আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজের কেনা জমিতে নির্মিত প্রকল্পটি জবরদখলের চেষ্টা করেন আসামিরা। এ নিয়ে সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বাদী সাইফুল ইসলাম তার প্রকল্পে ছিলেন। এ সময় আসামিরা অস্ত্র, শাবল, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। তারা প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে শ্রমিক ও নিরাপত্তারক্ষীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রাণভয়ে বাদী নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
এ সময় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল কাসেম রিভলবার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাবুল ছোরা দিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে, বাম হাত ও পিঠে আঘাত করেন। এতে তিনি নীলাফোলা জখম হন।
পারভেজকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তারক্ষী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় আসামি গোলাম মহিউদ্দিন পারভেজের পকেট থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে যান। শাহিনুজ্জামান নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়্যারলেস সেট নিয়ে যান। মতিউর ও মজিবুর নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা ও একটি বাটন ফোন নিয়ে যান।
পরে নুরুল ও মিজানুর প্রকল্পের প্রধান ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় লোহার ফটক, থাই গ্লাস ও কেচিগেট ভাঙচুর করা হয়। এতে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের অফিসে ঢুকে চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিভিডি বক্স, একটি এলইডি টিভি, সাতটি ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার ও একটি আলমারি ভাঙচুর করা হয়। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ছাড়া অফিসের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
নির্মাণাধীন ভবনের পাশে রাখা ২০ লাখ টাকার রড ও চার লাখ টাকার স্কুটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ লাখ টাকার কয়েল তার, এক লাখ টাকার পানির পাম্প, নির্মাণসামগ্রী ছাদে তোলার কাজে ব্যবহৃত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার যন্ত্র, তিন লাখ ২০ হাজার টাকার ল্যাপটপ ও কম্পিউটার এবং সিসিটিভির ডিভিআর, মনিটর ও ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে দুটি টেলিভিশন, এসি ও দামি আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
এসব ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ইমন ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



