আমি জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম : কলিমউল্লাহ

বেরোবির সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার জুলাইযোদ্ধা হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি জানালেন, আমি জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম।
শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। আদালতের অনুমতি নেন কলিমউল্লাহ। তিনি জানান, আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ প্রথম আমিই করি। সে আমার ছাত্র। আমি যে প্রথম প্রতিবাদ করি, তার রেকর্ড আছে। আমি জুলাইয়ের বিরোধিতা করিনি। আবু সাঈদ নিহতের পর প্রতিবাদ জানিয়ে জনমত গঠন করি। আমি জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
বেরোবির উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমউল্লাহসহ ৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ১৮ জুন মামলা করে দুদক। এই মামলায় মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গত বছরের ৭ আগস্ট গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই মামলায় গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। এই অবস্থায় উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রবীন্দ্র সরণি রোডের উত্তর পাশে ২ নম্বর রোডের মাথায় অবস্থান করেন ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির। ওইদিন বিকাল পৌনে ৫টায় আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালান। আসামিদের ছোড়া গুলি তার বাম হাতের কনুইয়ের মাঝখানে লাগে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। উপস্থিত লোকজন তাকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর জুলাইযোদ্ধা মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।




