‘লেডি মীর জাফর’ বলায় ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ

রুমিন ফারহানা ও নজরুল ইসলাম ছোটন
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিয়েছেন রুমিন ফারহানা।
স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, তাকে ‘লেডি মীরজাফর’ বলার মধ্য দিয়ে তাকে অপমানের পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছেন নজরুল ইসলাম।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন রুমিন ফারহানা।
‘লেডি মীরজাফর রুমিন ফারহানা আফা অতীত খুব দ্রুত ভুলে যাচ্ছেন’- নজরুলের ফেসবুক আইডি থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর এই স্ট্যাটাস দেখার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তার দুদিন আগেই রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছিল। তখন বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাকে গালাগালি করেছিলেন বলেও তার অভিযোগ।
অ্যাটর্নি জেনারেলকে লেখা অভিযোগে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের ফেসবুক পোস্টটি কুরুচিপূর্ণ, অত্যন্ত আপত্তিকর এবং মানহানিকর।
‘একজন আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করে না- একথা মনে করিয়ে দিয়ে রুমিন ফারহানা লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রের একজন ডিএজির কাছ থেকে এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে একই ঘটনা উপস্থাপন করে নজরুলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টেও নালিশ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সোমবার বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ নালিশ করেন তিনি।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের এই বেঞ্চে দিনের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বরে থাকা মামলাটির আইনজীবী ছিলেন রুমিন ফারহানা। এই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম।
ক্রম অনুযায়ী মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ডায়াসের সামনে আসেন। তিনি ডিএজির ফেসবুক পোস্ট আদালতের কাছে উপস্থাপন করে বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটন আমার প্রতি ক্ষোভ থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আদালতের কাছে আবেদন থাকবে তিনি যেন আমার কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি না করেন।’
এ সময় আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের পরিবর্তে ওই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্বরত সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সাগর হোসেনকে শুনানি করতে বলেন।




