যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
একই সঙ্গে তার ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ জানান এ তথ্য।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, শাহানুর আক্তারের প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জাহাঙ্গীর দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। তিনি নিয়মিত নেশা করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।
২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে তারা রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে শাহানুরের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সে সময় জাহাঙ্গীরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন ২০ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জুন জাহাঙ্গীরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।




