আবুল কালামের দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানি ৩১ আগস্ট

সংগৃহীত ছবি
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ তার দণ্ড কার্যকরের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তবে তার এই আবেদনের বিরোধিতা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আবেদনটির ওপর কোনো স্থগিতাদেশের মেয়াদ না বাড়িয়ে, আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বা ‘মেইনটেনেবল’ কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী কোনো আসামিকে দণ্ড দেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তবে আবুল কালাম আযাদকে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি আপিল করেছেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে তৎকালীন সরকারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
এরপর তিনি আপিল বিভাগে তার দণ্ড ও সাজা বাতিলের আবেদন করেন। বর্তমানে সেই আপিলটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সোমবার তিনি দণ্ড কার্যকরের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বললেন, ‘আমরা এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের বিরোধিতা করেছি। আমাদের বক্তব্য হলো, সরকারের দেওয়া এক বছরের স্থগিতাদেশের ভিত্তিতে যে আপিল করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের পর কোনো আপিল করার সুযোগ নেই। কিন্তু আবুল কালাম আযাদ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আপিল করেছেন।
আমিনুল ইসলাম বললেন, আবুল কালাম আযাদ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ বা পূর্ণ ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে আপিল করেছেন। তবে কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইন বা বিধান থাকলে সেখানে ১০৪ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ নেই বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি।
এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলটি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তা খারিজের আবেদন করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করেছেন। তবে দণ্ড কার্যকরের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো আদেশ দেননি। বরং আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নে শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী অবস্থানে রয়েছেন, সে বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘উনি ভারতে কী স্ট্যাটাসে আছেন, তা আমরা ক্লিয়ার না। উনি কি রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন, নাকি অন্য কোনো অবস্থায় আছেন সেটি আমরা এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানি না।’






