রামিসা হত্যা
আদালতে সোহেল বললেন— মাফ করে দেন

গতকাল মঙ্গলবার আসামি সোহেল রানাকে আদালতে তোলার সময় ছবিটি তুলেছেন মহুবার রহমান।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধষর্ণের পর হত্যা মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন আসামি স্বপ্না আক্তার। অন্যদিকে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা বলেছেন, আমাকে মাফ করে দেন।
আজ বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান। তখন তারা ন্যায় বিচার চেয়ে প্রার্থনা করেন।
এদিন কারাগার থেকে দুই আসামিকে আদালতে তোলা হয়। এরপর ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হয়। এসময় বিচারক তাদের প্রশ্ন করেন— আপনারা দোষী না নির্দোষ। উত্তরে স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
অপর আসামি সোহেল রানা বলেন, আমাকে মাপ করে দেন। এরপর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমে রামিসার উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করেন তার মা।
ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দাদের ডেকে এনে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ারঘরে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে কাটা মাথা দেখতে পান তারা। এ সময় স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একই দিন আদালত আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।
ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দেন। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
পরে গত সোমবার (১ জুন) আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।




