আরেক মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

আর এস ফাহিম চৌধুরী। ফাইল ছবি
চার মামলায় জামিনের পর রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেছেন এই তথ্য।
ফাহিমের আইনজীবী মো. রবিউল্লাহ বলেছেন, গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানার পৃথক চার মামলায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার জামিন আবেদন করেছি। সোমবার এই বিষয়ে শুনানি করব।
এদিন আসামি ফাহিমকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) উপপরিদর্শক আমির হামজা আসামি ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
এর আগে গত ২৯ মার্চ বিকালে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী। এরপর রাজধানীর শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গত ৩০ মার্চ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর গুলশান থানার মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মোহাম্মদপুর থানার আরও তিনটি মামলায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদে ডিবি পুলিশ জানতে পারে একটি সন্ত্রাসী চক্র অন্তর্বর্তী সরকারের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খুলে পরস্পরের মধ্যে সংবাদ আদান প্রদান করে আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রমনা মডেল থানাধীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়। অনেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আটকদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গ্রুপে নিজেদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বাধাদানের জন্য বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রমনা জোনাল টিমের এসআই রেজাউল করিম মামলা করেন।



