প্রমাণ মিলছে না বুয়েট শিক্ষার্থী সানি হত্যা মামলার

সংগৃহীত ছবি
চার বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পদ্মার মৈনট ঘাটে ডুবে মৃত্যু হয় বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানির। এ ঘটনায় তার পরিবার রাজধানীর দোহার থানায় হত্যা মামলা করে। তদন্তে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ মেলেনি। ভিসেরা পরীক্ষায় এসেছে, ভিকটিম পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
মামলাটির পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ‘তথ্যগত ভুল’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুমোদন চাইলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত চললেও প্রতিবেদন দেওয়ার সময় পার হয়েছে ৪১ বার। তবে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
মামলাটি বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুতুবপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মশিউর রহমান তদন্ত করছেন। তার ভাষ্য, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ক্লোজ মনিটরিংয়ে মামলাটির নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির তদন্ত সমাপ্ত করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদন জমা দিতে কত দিন লাগবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
সর্বশেষ গত ১ জুন মশিউর রহমান আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) মো. নাসির উদ্দিন তার তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ভুক্তভোগী তারিকুজ্জামন সানির মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনসহ ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতাসহ সার্বিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এবং ঘটনাটিতে তথ্যগত ভুল বলে প্রতীয়মান হয়।
পরে মামলার দায় থেকে আসামিদের অব্যাহতিদানের আবেদন করে চূড়ান্ত রিপোর্টে তথ্যগত ভুল দাখিল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আদেশ সংগ্রহের জন্য সাক্ষ্যের স্মারকলিপি দাখিল করা হয়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্ত করার আদেশ দেয়। সর্বশেষ ২ জুলাই এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ওইদিন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। এজন্য ৩ আগস্ট নতুন দিন ধার্য রয়েছে প্রতিবেদন দাখিলের।
এ মামলার আসামিরা হলেন— শরীফুল হোসেন, শাকিল আহম্মেদ, সেজান আহম্মেদ, মো. রুবেল, মো. সজীব, মো. নুরুজ্জামান, মো. নাসির, মো. মারুফ, মো. আশরাফুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, মো. নোমান, মো. জাহিদ, এ টি এম শাহরিয়ার মোমিন, মো. মারুফুল হক ও রোকনুজ্জামান ওরফে জিতু। আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছেন।
আদালতের ভাষ্য, ‘যেহেতু তারা (পুলিশ) দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছে, আপাতত তারা শেষ করুক। আমরা ওই তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
বড় ভাই মো. হাসানুজ্জামান বলেছেন, ‘এখন আমি ওর (সানি) ঘরে থাকি। সানির ব্যবহৃত জামা-কাপড় আগের মতোই রয়েছে। টেবিলে গোছানো রয়েছে বই-খাতা। ব্যাগে ভরা রয়েছে ল্যাপটপ। তবে ঘরে সানির কোনো ছবি রাখি না। যেহেতু সে নেই, তাই তার ছবি আমাদের হৃদয়ে রেখেছি। মা সবসময় সানির কথা বলেন। সানিকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই।’




