সালমান শাহর লাশ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

সংগৃহীত ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন। এতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজকে লাশ উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আজ রবিবার ওই অফিস আদেশের একটি অনুলিপি ডাকযোগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। গত ২৪ মে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
পরে গত ২৩ জুন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসানের মাধ্যমে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। তবে মরদেহ উত্তোলনের আগের আদেশ বহাল থাকে।
গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই দিন রাতেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চিত্রনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হলে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও নীলা চৌধুরী নারাজি আবেদন করেন।
সব শেষে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরে ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করা হয়।





