হাসিনা বিচার বিভাগ ধ্বংস করে গেছেন : রিজভী

বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী
শেখ হাসিনা দেশের আদালত ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এখন ‘নতুন করে বিনির্মাণ করতে’ সিনিয়র আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানালেন তিনি।
আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রিজভী। ‘এই যে আদালত, আইনি প্রক্রিয়া এটা শেখ হাসিনা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এখন এখান থেকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে হবে। যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন, তারা দায়িত্ব পালন করবেন, শেখাবেন। হাসিনার আদালতে যেন পরিণত না হয়।’
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আইনজীবীদের ভূমিকা তুলনাহীন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘১৭ বছর পর অনেকে ক্রেডিট নিচ্ছেন। ঠিক আছে, ছাত্ররা বেরিয়ে এসেছে, আন্দোলন সফলতার জায়গায় নিয়ে এসেছে। কিন্তু তার আগে হাসিনা তার ফ্যাসিবাদী শাসন কণ্টকমুক্ত করতে কাউকে বাদ দেয়নি। বারবার কারাগারে গেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতো বয়োবৃদ্ধ মানুষ। অনেক নাম, অনেক বড় তালিকা। এরা শুধু আইনজীবী নয়, এরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। কারণ সেদিন তাদের সমুজ্জ্বল উপস্থিতি আদালত প্রাঙ্গণে না থাকলে শেখ হাসিনাকে দুর্বল করা যেত না।’
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী এ বছর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জাকারিয়া হায়দার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এ কে এম মতিনুর রহমান প্রমুখ।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, বিএনপির সামনে দুর্গম পথ। ডানে ফ্যাসিস্ট, বামে গুপ্ত-সুপ্ত, পেছনে জুলাই চেতনা। এর মধ্যেই এগোতে হবে।
তিনি দাবি করেন, দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি আপিল বিভাগ বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মামলায় যে রায় দিয়েছেন, তা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এমন রায় ৫ আগস্টের আগে হলে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সবাইকে দেশ ছাড়া হতে হতো। নির্বাচিত হওয়ার পরও শপথ নিতে পারেননি আসলাম চৌধুরী। আদালতের রায়ে যে সরকার হস্তক্ষেপ করছে না, এটাই তার নমুনা।




