নিউগিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুর-লুটপাট মামলায় প্রধান আসামির জামিন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প ভাঙচুর, লুটপাট, চুরির মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে তার ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। আজ মঙ্গলবার ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বয়স্ক ও অসুস্থ বিবেচনায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিষয়টি আমলে নিয়ে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৭ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীস্থ ইনসিভি চত্বর নিউগিনি প্রোপার্টিজের ক্রয়কৃত জমির ওপর নির্মিত নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সম্পত্তি জবরদখলসহ নানা রকম সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টির লিপ্ত রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম তার প্রজেক্টে অবস্থান করছিলেন। এসময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্রসহ শাবল, রিভালবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে তার প্রজেক্টে অনধিকার প্রবেশ করেন। এসময় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
তখন ঘটনাস্থলে থাকা লেবার, সিকিউরিটি গার্ডরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে এবং বাদীও প্রাণভয়ে নির্মাণাধীন ভেতরে আশ্রয় নেন। আসামিরা নির্মাণাধীন ভবনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে নীলাফোলা জখম করেন। আবুল কাসেম রিভালবারের মাথা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পারভেজের মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি বাবুল ছোরা দিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অংশে এবং তার বাম হাত ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। আসামি গোলাম মহিউদ্দিন তার পকেটে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। পারভেজকে বাঁচাতে প্রজেক্টের সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলাম এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন। আসামি শাহিনুজ্জামান তার হাতে থাকা সিকিউরিটির কাজে ব্যবহৃত ওয়াল্যাস সেট নিয়ে যায়। আসামি মতিউর ও মজিবুর সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামি নুরুল ও মিজানুর প্রজেক্টের মেইন গেটে ১০ রাউন্ড গুলি করে এবং লোহার গেট, থাইগ্লাস, কেচিগেট ভেঙে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। আসামিরা বাদীর প্রজেক্টের অফিস রুমে প্রবেশ করে চারটি কম্পিউটারের মনিটর, চারটি ডিভিবক্স, একটি এলইডি টিভি, সাতটি বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার, একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করেন। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। আসামিরা অফিস রুমের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ের জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলার বিবরণে জানানো হয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মাণাধীন ভবনের সাইডে রাখা ২০ লাখ টাকার রড, চার লাখ টাকার স্কুটার নিয়ে যায়। ৫৫ লাখ টাকার কয়েল তার, এক লাখ টাকা মূল্যের পানির পাম্প, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী ছাদে উঠানোর রফুস, তিন লাখ ২০ হাজার টাকার ল্যাপটপ ও কম্পিউটার, ৭৫ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ডিভিআর, মনিটর ও ৭০ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ক্ষতি করে। এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টিভি, এসিসহ অন্যান্য দামি ফার্নিচার ভাঙচুর করে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করেন।



