জামিন পেলেন না এমপি গাজী নজরুল, যাবেন উচ্চ আদালতে

গাজী নজরুল ইসলাম
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। জজ আদালতে জামিন না পাওয়ায় এবার উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবীরা।
গাজী নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পর জজ আদালতেও তার জামিন হয়নি। এখন উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
এদিন গাজী নজরুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান ও মিজানুর রহমান। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার। তিনি আদালতে বলেছেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় গাজী নজরুল জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর আসামি ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ অক্টোবর তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৫ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মো. মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে উল্লেখ করে একটি হলফনামা জমা দেন। এতে তিনি জানান, আসামিরা জামিন পেলে তার কোনো আপত্তি নেই। পরে শুনানি শেষে মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়ম শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি অনেক লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, বাসার একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছিলেন। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়।
মামলার এজাহারে বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।




